প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 4, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 4, 2026 ইং
পুঁজিবাজারে আইপিও সংকট, বাড়ছে অর্থনীতির নীরব চাপ।

বিজয় দত্ত :
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন ধরে নতুন প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদনের গতি কমে গেছে। বিষয়টি প্রথমে শেয়ারবাজারের সমস্যা মনে হলেও এর প্রভাব এখন অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পড়তে শুরু করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, একটি কার্যকর পুঁজিবাজার শুধু শেয়ার কেনাবেচার জায়গা নয়। এটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। নতুন কোম্পানি বাজারে এলে তারা ব্যবসা সম্প্রসারণ, নতুন প্রযুক্তি সংযোজন এবং কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ পায়।
কিন্তু নতুন আইপিও কমে যাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান এখন ব্যাংকঋণের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এতে ঋণের চাপ বাড়ছে, উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। ফলে নতুন বিনিয়োগের গতি আগের তুলনায় ধীর হয়ে পড়ছে।
একটি আইপিওর সঙ্গে শুধু একটি কোম্পানি নয়, নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান, মার্চেন্ট ব্যাংক, ইস্যু ম্যানেজার, আইনজীবী, ক্রেডিট রেটিং প্রতিষ্ঠান, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ হাউস, ব্যাংক এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অসংখ্য পেশাজীবী যুক্ত থাকেন। নতুন আইপিও না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের কাজও কমে গেছে। অনেক দক্ষ জনবল নতুন সুযোগের খোঁজে অন্য খাতে চলে যাচ্ছেন।
এদিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও নতুন ও সম্ভাবনাময় কোম্পানিতে বিনিয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাজারে মানসম্পন্ন নতুন শেয়ার না আসায় সীমিত কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের ওপর চাপ বাড়ছে, যা বাজারে অস্থিরতা এবং কারসাজির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশ্বের উন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো নিয়মিত নতুন কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ দেয়। এর ফলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, কর আদায় এবং বিনিয়োগ সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও আইপিও অনুমোদন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও সময়সীমাভিত্তিক করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ভালো করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করা, বাজার কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্থিতিশীল নীতি অনুসরণ করা জরুরি।
তাদের মতে, শক্তিশালী কোম্পানি আইন, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং মানসম্পন্ন নতুন কোম্পানির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে পুঁজিবাজার আবারও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক ভোরের কথা